সংবিধান সংশোধনে আবারও গণভোটের উদ্যোগ

সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারায় সংশোধনের উদ্যোগ, সংসদে বিল পাসের পর প্রয়োজনীয় বিষয়ে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক | জি পোস্ট 24 নিউজ
সংবিধানের মৌলিক কাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সংশোধনীর ক্ষেত্রে আবারও গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটি।
রোববার জাতীয় সংসদে সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, সংবিধান সংশোধনবিষয়ক কমিটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এরপর জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংশোধনী বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিলটি সংসদে পাস হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণভোট আয়োজন করা হতে পারে।
বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের সাংবিধানিক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সেসব বিষয়ে সংশোধন আনা হলে গণভোট করতে হবে। তিনি জানান, প্রস্তাবনা এবং ৮, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদসহ কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো সংবিধান সংশোধনী বিলের ওপর গণভোটের প্রয়োজন হবে না। বরং যেসব নির্দিষ্ট ধারায় পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিকভাবে গণভোট প্রয়োজন, সেসব পরিবর্তনকে গণভোটের আওতায় আনা হবে।
বৈঠকে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব উঠে আসে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা যেসব বিষয় বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিরোধী দলের সদস্যদের বিশেষ কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, বিরোধী দল আলোচনায় অংশ নিলে তাদের প্রস্তাব ও মতামতও সংশোধনী প্রক্রিয়ায় বিবেচনার সুযোগ তৈরি হবে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন সম্পাদকও সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। আবারও গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী প্রয়োজন হলে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
জি পোস্ট 24 নিউজ
চলো একসাথে এগিয়ে যাই



