বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক
BNBD NEWS 365:আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। শুক্রবার ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস এ রায় দেন।
বিচারকের মতে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালত ওই নীতিকে আইনবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করেছে।
কী ছিল মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। এতে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল।
এই নীতির আওতায় বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তানসহ লাতিন আমেরিকা, বলকান, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ ছিল।
বিচারকের পর্যবেক্ষণ
রায়ে বিচারক জেনেট ভার্গাস বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে একটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া বিদ্যমান অভিবাসন আইনের কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আদালতের মতে, মার্কিন আইনে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা নির্দিষ্টভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। ফলে ওই ক্ষমতার বাইরে গিয়ে জাতীয়তার ভিত্তিতে ব্যাপকভাবে ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
মামলার পেছনে কারা
অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীরা এ বিষয়ে আদালতে মামলা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন নাগরিকও মামলায় যুক্ত ছিলেন, যাদের পরিবারের সদস্যরা ওই দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করেছিলেন।
মামলাকারীদের বক্তব্য ছিল, এই নীতির কারণে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় থাকা বহু পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এই রায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ার ওপর থাকা স্থগিতাদেশের আইনগত ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তবে আদালতের রায়ের পরপরই সব ধরনের ভিসা আবেদন স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বাস্তবে রায়ের পর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্ক
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা আনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সম্পদের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানো এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে অধিকারকর্মীরা এসব নীতির সমালোচনা করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাতীয়তা বা পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি ও বৈষম্যের আশঙ্কার কথাও তারা তুলে ধরেছেন।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন আদালতের এই রায় সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন মার্কিন প্রশাসন রায়টি কীভাবে বাস্তবায়ন করে এবং অভিবাসী ভিসা কার্যক্রম কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।



