যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে হারিকেন ইসাইয়াস, বাতাসের গতি ১৬৫ কিমি

শক্তিশালী ঝড়ের আশঙ্কায় জরুরি প্রস্তুতি, ব্যাহত হতে পারে তেল উৎপাদন ও বিমান চলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৯ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন ‘ইসাইয়াস’। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬৫ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে এগিয়ে আসা ঝড়টির কারণে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস, ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝড়টি ফ্লোরিডা ও আলাবামার উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে মিসিসিপিসহ আশপাশের কয়েকটি রাজ্যেও ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। ঝড়ের গতিপথ পরিবর্তিত হলে উপকূলীয় শহরগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়তে পারে।
পূর্বাভাসে কিছু এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের কারণে পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও টর্নেডোর ঝুঁকি থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি
হারিকেনের আশঙ্কায় ফ্লোরিডা ও আলাবামার বিভিন্ন এলাকায় জরুরি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বাতিল এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় খাবার, পানি, ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
তেল উৎপাদন ও পর্যটনে প্রভাব
হারিকেনের প্রভাবে মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে কিছু উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া বিমান চলাচল, উপকূলীয় পর্যটন ও বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
সতর্ক অবস্থানে প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চল অতীতেও শক্তিশালী হারিকেনের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাই সম্ভাব্য বিপদ মোকাবিলায় আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



