নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ২৯১ বিদেশিসহ ৩৮৪ জন নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:BNBD NEWS নেপাল তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ২৯১ বিদেশিসহ ৩৮৪ জন নিখোঁজ
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। নেপাল পর্যটন বোর্ডের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। অর্থাৎ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী এখনো নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাসুয়া জেলার তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় আকস্মিকভাবে বন্যার পানি ও কাদার স্রোত নেমে আসে। এতে ভোতে কোশি নদী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্রোতের তোড়ে ঘরবাড়ি, যানবাহন, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তালিকায় নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়, মার্কিন, ব্রিটিশ, অস্ট্রেলীয়, মালয়েশীয়, ডাচ ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের থাকার কথা জানা গেছে। শুধু ভারতীয় নাগরিকই ১০৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কীভাবে ঘটল এই দুর্যোগ?
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ি এলাকায় একটি ভূমিকম্পের পর তুষার ও পাথরের বিশাল ধস নেমে নদীর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে সেই বাধা ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে নেমে এসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। তবে বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে; ভূমিকম্প, তুষারধস ও নদীর উজানে আকস্মিক পানির চাপ—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো যাচ্ছে না। নেপাল সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমেও উদ্ধার তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যদিও আবহাওয়া ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাসুয়া এলাকায় কর্মরত ৮ জন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না, আর আরও ১০ জন সেখানে আটকা পড়েছেন।
সীমান্ত ও অবকাঠামোয় বড় ক্ষতি
বন্যার প্রভাব নেপালের সীমান্ত এলাকা ছাড়িয়ে তিব্বতের দিকেও পড়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
নিহতের সংখ্যা বাড়ছে
দুর্যোগের পর প্রথম দিকের প্রতিবেদনে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও সময়ের সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ২২ জন বা তার বেশি নিহতের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যাও পরিবর্তিত হতে পারে, কারণ দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেকের অবস্থান এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নেপালের কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রধান অগ্রাধিকার



