নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস: দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, নিহত বেড়ে ১৫৭

BNBD NEWS:আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রবল পানির স্রোত ও কাদার ঢলে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু। দুর্গত এলাকায় এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বন্যা ও ভূমিধসকবলিত এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ৬৪ জন, ধাদিংয়ে ২৭, নওয়ালপরাসি ইস্টে ২২, গোর্খায় ১৯, নুয়াকোটে ১৩, তানাহুনে ৯ এবং রাসুয়ায় ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্তত ৪১ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্যোগের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন রাসুয়া জেলার স্যাব্রুবেসি ও তিমুরসহ আশপাশের এলাকায়। প্রবল পানির তোড়ে সেতু ও সড়ক ধ্বংস হয়েছে এবং নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ভূমিকম্পের পর পাহাড়ি ঢল নেমে এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরবর্তী বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরিবর্তে একটি বড় ভূমিধস এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সূচনা করে থাকতে পারে। হিমবাহের বরফ, পাথর ও মাটি নদীতে নেমে যাওয়ার ফলে অল্প সময়ের মধ্যে পানির প্রবাহ ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় দুর্যোগের প্রভাব দুই দেশেই পড়েছে। চীনের তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৬০ জন। একই সঙ্গে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগের পর নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশসহ কয়েক হাজার সদস্যকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চালানোর চেষ্টা চলছে। তবে প্রবল বাতাস, কাদা, ধ্বংসস্তূপ এবং যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকদের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
নেপাল সরকার দুর্গত মানুষের উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য ও আশ্রয় নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হিমালয়ের এই অঞ্চলজুড়ে এখন চলছে নিখোঁজদের সন্ধান, মরদেহ উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার কাজ। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



