ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত লারাক দ্বীপে দুটি ইরানি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববারের এ হামলাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, লারাক দ্বীপে থাকা দুটি লঞ্চারকে লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সদস্যরা হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনে সক্ষম রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী ওই লঞ্চার ব্যবহার করে সাগরে মাইন বহনকারী রকেট ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন তথ্য শনাক্ত হওয়ার পরই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হরমুজ দ্বীপের দক্ষিণে ও কেশম দ্বীপের পূর্বদিকে অবস্থিত লারাক দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তেহরান থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
হামলার বিষয়টি ইরানের আইআরজিসিও নিশ্চিত করেছে। ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় কয়েকজন সামরিক সদস্য ও বেসামরিক ব্যক্তি নিহত বা আহত হয়েছেন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরজিসির বরাতে জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করে, তাহলে ওয়াশিংটন ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খামেনি বলেন, মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টির যেকোনো কর্মকাণ্ড শেষ পর্যন্ত ইসলামের শত্রুদের স্বার্থকে এগিয়ে দেয়। একই সঙ্গে তিনি প্রকৃত শত্রুকে চিহ্নিত করে তাদের পরিকল্পনা বুঝে মোকাবিলার আহ্বান জানান।
লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং ইরানের পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারির মধ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।


