দৌলতপুরে ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, ডুবে গেছে রাস্তাঘাট-ফসলি জমি

দৌলতপুরে ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, ডুবে গেছে রাস্তাঘাট-ফসলি জমি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নে নদীর পানি বেড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
গত কয়েকদিন ধরে উজানের ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পানিতে তলিয়ে গেছে অধিকাংশ রাস্তাঘাট। ফলে অনেক এলাকার মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও নৌকা হয়ে উঠেছে চলাচলের প্রধান মাধ্যম।
বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দুই ইউনিয়নের ২৫টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে দুর্গত মানুষ যাতে প্রয়োজনে আশ্রয় নিতে পারেন, সে জন্য বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ২০ থেকে ২৩টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে গেছে। পানি প্রবেশ করা বাড়ির বাসিন্দাদের নৌকায় করে তুলনামূলক নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে চিলমারী ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকেছে। এতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ইউনিয়নের প্রায় সব রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তবে পানি আরও বাড়লে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে কৃষি অফিসের তথ্যমতে, দুই ইউনিয়নে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আমন ধান, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি আরও বাড়লে কৃষিখাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে পারে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাউদ্দৌলা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানি ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পদ্মার পানি বেড়েছে। বর্তমানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার এবং নদীর পানি প্রায় ১৩ মিটারের আশপাশে রয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পানি আরও বাড়লে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।



