যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল

যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল
রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরুর প্রায় ছয় বছর পর যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। তাদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ব্রিটেনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই দম্পতি। আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই সন্তানদের যুক্তরাজ্যের স্কুলে পড়াশোনা শুরু করার কথা রয়েছে।
রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হ্যারি-মেগানের এই সিদ্ধান্তের খবর রাজা চার্লসও জেনেছেন। নাতি-নাতনিদের আরও কাছাকাছি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে জানা গেছে।
তবে যুক্তরাজ্যে ফিরে গেলেও হ্যারি ও মেগান আপাতত রাজপরিবারের সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন না। ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর যে সমঝোতা হয়েছিল, সেই কাঠামোর মধ্যেই তারা ‘নন-ওয়ার্কিং রয়্যাল’ হিসেবে থাকবেন। একই সঙ্গে কোনো রাজকীয় প্রাসাদে তাদের বসবাসের পরিকল্পনাও নেই।
২০১৮ সালে উইন্ডসর ক্যাসেলে মেগানকে বিয়ের পর ব্রিটিশ রাজপরিবারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের নজরদারি, রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং নানা বিতর্কের কারণে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান হ্যারি-মেগান।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র এবং হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’-এর মাধ্যমে রাজপরিবার ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন তারা। এসব ঘটনায় রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করে মেগান ও হ্যারি বাণিজ্যিক বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত হন। নেটফ্লিক্স ও স্পটিফাইসহ বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেন তারা। হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও পরবর্তীতে স্পটিফাইয়ের সঙ্গে তাদের চুক্তি শেষ হয়ে যায়। মেগানের লাইফস্টাইলভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও ওঠানামা দেখা গেছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে হ্যারি ও রাজপরিবারের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। রাজা চার্লসের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর বাবা-ছেলের যোগাযোগে নতুন করে কিছুটা উষ্ণতা তৈরি হয়। দীর্ঘ বিরতির পর তাদের সাক্ষাৎও হয়।
গত মাসে হ্যারির যুক্তরাজ্য সফরের সময় রাজা চার্লস তাঁর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পরিবারটির মধ্যে দূরত্ব কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক হয়নি। দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব পুরোপুরি কাটেনি বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
হ্যারি-মেগানের যুক্তরাজ্যে স্থায়ী প্রত্যাবর্তন তাই শুধু পারিবারিক সিদ্ধান্ত নয়, রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সন্তানদের ব্রিটেনে বেড়ে ওঠার সুযোগ এবং রাজপরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা—দুই বিষয়ই এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম



