চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে তিন নদীর পানি, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে তিন নদীর পানি, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ
BNBD365 NEWS ডেস্ক | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী। এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
পানি বাড়ার কারণে নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে যাচ্ছে আমন ধানের জমিও। কোথাও কোথাও বসতঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় পরিবার নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশন সংকট।
বিপদসীমার কাছাকাছি পদ্মার পানি
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পাঁখা গেজ স্টেশনে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ২১ দশমিক ৭৬ মিটার। সেখানে বিপদসীমা ২২ দশমিক ০৫ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি।
গত পাঁচ দিনে পদ্মার পানি বেড়েছে ৪৪ সেন্টিমিটার। ৭ সেপ্টেম্বর পানির উচ্চতা ছিল ২১ দশমিক ৩২ মিটার। এরপর প্রতিদিনই তা বেড়ে সর্বশেষ ২১ দশমিক ৭৬ মিটারে পৌঁছেছে।
বাড়ছে মহানন্দা ও পুনর্ভবার পানিও
পদ্মার পাশাপাশি মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানিও বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় মহানন্দা নদীর খালঘাট গেজ স্টেশনে পানি ছিল ১৯ দশমিক ৪৩ মিটার। এই নদীর বিপদসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার।
অন্যদিকে পুনর্ভবা নদীর রহনপুর গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৪৬ মিটার। এ নদীর বিপদসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার।
তলিয়ে গেছে একাধিক গ্রাম
পানি বৃদ্ধির কারণে শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের পাশাপাশি দুর্লভপুর গাইপাড়া, নামো জগন্নাথপুর, নামো পিয়ালীমারী, হাসানপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকেছে। এছাড়া মনাকষা ইউনিয়নের চর সিংনগর, হঠাৎপাড়া, পারচৌকা নতুনপাড়া ও নতুন রাঘরবাটিসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। অনেক ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও যোগাযোগ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। দ্রুত বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ত্রাণের তালিকা প্রশাসনের কাছে
পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রয়োজন।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আগামীকাল পর্যন্ত বাড়তে পারে পানি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী আগামীকাল পর্যন্ত পদ্মা নদীর পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
ব্রেকিং নিউজ বিডি ৩৬৫
-এর সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।



