বিএনপি মহাসচিব পদে আলোচনার শীর্ষে রিজভী

ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে দলের নেতৃত্বে আসতে পারেন সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব
নিজস্ব প্রতিবেদক:Breaking News BD 365
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আলোচনা জোরালো হওয়ার পর দলটির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপির একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে তাকে বিএনপির মহাসচিবসহ দলীয় পদ ছাড়তে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দলের গুরুত্বপূর্ণ এ পদে রিজভী আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। দলের কঠিন সময়েও তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। বিশেষ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে থেকে দীর্ঘ সময় দলের মুখপাত্র হিসেবে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচির বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন
তৃণমূলে রিজভীর শক্ত অবস্থান
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রিজভীর অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণও করেছেন। দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করে, দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের জন্য রিজভী একজন সম্ভাব্য প্রার্থী।
এ ছাড়া সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব হিসেবে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দিয়ে শুরু হতে পারে
দলীয় সূত্রের আলোচনায় আরও বলা হচ্ছে, রিজভী আহমেদকে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব না করে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
এর আগে ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।
এই দৃষ্টান্তের কারণে রিজভীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে
রাষ্ট্রপতি পদে ফখরুলের নাম ঘিরে আলোচনা
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. মঈন খান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদের নাম রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরেই আলোচনা সবচেয়ে বেশি জোরালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নিয়োগ কিংবা বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীর দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
যা বললেন রিজভী
মহাসচিব পদে নিজের নাম আলোচনায় আসার বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য রেখে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, দলের সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং এখনো সেই দায়িত্ব পালন করছেন।
দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সেটি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের নীতিনির্ধারকরাই সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ফলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের নীতিনির্ধারকদের ওপরই নির্ভর করছে।



