নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিহত ১৭৭, নিখোঁজ প্রায় ১,৫০০

BNBD NEWS:আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় দুই দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
নেপালের পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখনো ৮২৬ জনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। ওই এলাকায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে চীন।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। একই সঙ্গে অন্তত ৮৫ জন জরুরি সেবাকর্মীর সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, হিমালয় অঞ্চলের একটি নদীতে পাহাড়ের বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ধসে পড়ার পর ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকায় সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপাল ও চীনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে। দুর্গম ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চালাতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
তবে ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। নেপালের সেনাবাহিনী রাসুলার হাকু এলাকায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে থাকা সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি তিমুরে এলাকা থেকে নিখোঁজ ২১ জন ভারতীয় পর্যটকসহ মোট ৯৫ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা শেষ হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



