মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক:BNBD NEWS
বাংলাদেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শপথ পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।
শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে বঙ্গভবনের দায়িত্ব নিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, বিচারপতি, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হাফিজ উদ্দিন আহমদ, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের জন্য মঞ্চে তিনটি চেয়ার রাখা হয়। শপথ শেষে নবনির্বাচিত ও বিদায়ী রাষ্ট্রপ্রধান নিজেদের আসন পরিবর্তন করে বসেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। ঢাকা কলেজ ও দিনাজপুর কলেজে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে বিএনপির নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উঠে আসেন।
১৯৯২ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। এরপর দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদের বিএনপি সরকারের সময় তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তী সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ভোটে নির্বাচিত নতুন প্রেসিডেন্ট
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদে প্রেসিডেন্ট পদে ভোট হয়েছিল।
নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবার সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর তিনি মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ফিরবেন। রোববার বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ওঠার কথা রয়েছে তার। বঙ্গভবনে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার দেবে।


