এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলবে
BNBD365 NEWS DESK

ঢাকা: আসন্ন শিক্ষাবর্ষেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী এই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা চালু হতে পারে—এমন আলোচনা ছিল। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আগের নিয়ম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, এসএসসি ফল প্রকাশের আগেই ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে ১০ আগস্ট। প্রাথমিকভাবে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর অপ্রস্তুততার কারণে তা পেছানো হয়।
গত কয়েক বছর ধরে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হচ্ছে এসএসসি ফলাফলের ভিত্তিতে। আবেদনকারীদের নির্ধারিত ফি দিয়ে সর্বনিম্ন ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিতে হয় অনলাইনে। পরে ফলাফল, কোটা (যেখানে প্রযোজ্য) ও পছন্দক্রম বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য: ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতিতেই ভর্তি হয় শিক্ষার্থীরা। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, মূল ভর্তিপদ্ধতি আগের মতোই থাকলেও বিভিন্ন কোটা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং এত অল্প সময়ে নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন করাও কঠিন—বলে মনে করছেন বোর্ড কর্মকর্তারা।
প্রাথমিকভাবে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকায় ৩০ জুলাই থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ফল প্রকাশ পেছোনোয় ভর্তি কার্যক্রমও পিছিয়েছে। নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোয় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। অন্যদিকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। পরীক্ষার প্রথম দিনেই ২৫ হাজার ৪০৮ জন অনুপস্থিত ছিলেন, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও আরও অনেকে অংশ নেননি।
তাই এবারও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কত আসন খালি থাকবে, তা নির্ভর করবে পাসের হারের ওপর—পাসের হার বেশি হলে খালি আসন কমবে, আর কম হলে বাড়বে।



