হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে দুই তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্তের দাবি ইরানের

হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে দুই তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্তের দাবি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, নির্ধারিত নিরাপদ নৌপথ এড়িয়ে চলার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার সমুদ্র মাইনে আঘাত পেয়ে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, দুটি ট্যাংকার ইরানের নির্ধারিত নিরাপদ পথ অনুসরণ না করে ‘অবৈধ’ একটি রুট দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। এ সময় জাহাজ দুটি সমুদ্র মাইনে আঘাত পায়। বিস্ফোরণের পর ট্যাংকার দুটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেগুলো চলাচলের সক্ষমতা হারায় বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।
আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতা বিপজ্জনক পথ সম্পর্কে জাহাজগুলোকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। নিরাপদ নৌপথ ব্যবহার করার নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে অন্য পথে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ইরানি বাহিনী আরও জানিয়েছে, ট্যাংকারগুলোর নাবিকদের জাহাজ থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের মার্কিন সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
জাহাজ কোম্পানিগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি। বাহিনীটির বক্তব্য, ইরানের নির্ধারিত নিরাপদ নৌপথ অনুসরণ না করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা বা প্ররোচনায় হরমুজ প্রণালির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজ কোম্পানিগুলোকে ভবিষ্যতে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ইরানের সতর্কতা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতারণার’ শিকার হয়ে যারা ঝুঁকিপূর্ণ পথে চলাচল করবে, তাদের বিরুদ্ধে ‘দ্বিগুণ শাস্তি’ কার্যকর করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ভিন্ন
তবে ট্যাংকার দুটি মাইনে আঘাত পাওয়ার বিষয়ে ইরানের দাবির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এর আগে ইরানের এমন দাবিকে অস্বীকার করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ মাইনে আঘাত পেয়েছে—এমন তথ্য তাদের কাছে নেই।
ফলে ট্যাংকার দুটি ঠিক কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে সত্যিই সমুদ্র মাইন ছিল কি না এবং ঘটনাটির সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হরমুজে কমছে জাহাজ চলাচল
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রণালিটি দিয়ে মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ পার হয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১০টি এবং গত ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৩টি।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সরাসরি সামরিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তবে দুটি ট্যাংকার মাইনে আঘাত পেয়ে ধ্বংস বা অচল হওয়ার বিষয়টি আপাতত আইআরজিসির দাবি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্রে এর পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখানো হচ্ছে না।



