মায়ের দাবি ছেলে মুসলিম, বাবার দাবি হিন্দু—৫ দিন পর হাইকোর্টের আদেশে বিল্লালের দাফন

মায়ের দাবি ছেলে মুসলিম, বাবার দাবি হিন্দু—৫ দিন পর হাইকোর্টের আদেশে বিল্লালের দাফন
BNBD365 NEWS | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে নিহত এক যুবকের ধর্মীয় পরিচয় ও শেষকৃত্য নিয়ে মা-বাবার ভিন্ন দাবিতে সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটেছে হাইকোর্টের আদেশে। পাঁচ দিন ফ্রিজিং গাড়িতে সংরক্ষিত থাকার পর নিহত বিল্লাল হোসেনের মরদেহ ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন বিল্লাল। এরপর তার মরদেহ দাফন করা হবে নাকি সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাহ করা হবে—এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
নিহতের জন্মসূত্রে নাম ছিল শুভ। তার বাবা হরি চন্দ্র দাস দাবি করেন, ছেলে হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিলেন এবং সনাতন রীতি অনুযায়ী তার শেষকৃত্য হওয়া উচিত।
অন্যদিকে মা আয়েশা বেগমের দাবি, ২০০৩ সালে তার বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি ও তার ছেলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে হলফনামার মাধ্যমে শুভর নাম পরিবর্তন করে বিল্লাল রাখা হয়। মুসলিম রীতি অনুযায়ী বিল্লালের বিয়েও হয়েছিল এবং তার দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে বলে জানান তিনি।
দুই পক্ষের বিপরীত দাবির কারণে পুলিশ মরদেহ দাফন বা দাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। পরে মরদেহ ফ্রিজিং গাড়িতে সংরক্ষণ করে বিষয়টির আইনগত সমাধানের জন্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় পুলিশ।
শুনানির সময় নিহতের ভাই আদালতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করে শোনান এবং জানান, তারা দুই ভাই একসঙ্গে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন।
আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আইনি মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিল্লাল মুসলিম না হলে তার বিবাহ এবং দুই বছরের সন্তানের বৈধতা ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
শুনানিতে নিহতের মা, ভাই, স্ত্রী ও সন্তান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই বিল্লাল ইসলাম ধর্ম পালন করতেন বলে জানান এবং ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী তার দাফনের পক্ষে মত দেন।
সার্বিক বিষয়, পারিবারিক পরিচয় এবং সন্তানের বৈধতার বিষয় বিবেচনা করে হাইকোর্ট বিল্লাল হোসেনের মরদেহ ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফনের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।
এর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিন ধরে চলা ধর্মীয় পরিচয় ও শেষকৃত্য নিয়ে আইনি ও পারিবারিক জটিলতার অবসান হলো।


