ভূমধ্যসাগরে আবারও ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮

ভূমধ্যসাগরে আবারও ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক |BNBD365 NEWS
ভালো জীবনের আশায় ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতির শিকার হয়েছেন বাংলাদেশিরা। খাবার ও পানির সংকটের পাশাপাশি নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় সাগরে টানা কয়েক দিন ভেসে থাকতে হয়েছে তাদের। এ সময় অনাহার ও তৃষ্ণায় অন্তত ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ১৮ বাংলাদেশিকে মিশরের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি নৌকা লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে। নৌকাটিতে ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন বলে জানা গেছে। যাত্রার কিছু সময় পর নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়ে। এতে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়।
এরপর গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ফলে নৌকাটি সাগরের স্রোত ও বাতাসের ওপর নির্ভর করে ভাসতে থাকে। পর্যাপ্ত খাবার ও পানি না থাকায় যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। কয়েক দিন ধরে সাগরে আটকে থাকার পর একে একে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয় বলে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার এক যাত্রী জানিয়েছেন, নৌকায় থাকা খাবার ও পানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর সবাই চরম দুর্বল হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে একের পর এক যাত্রী মারা যেতে থাকেন। মৃতদেহগুলো নৌকায় পড়ে থাকায় কয়েক দিন পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পরে জীবিতরা মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন বলে জানা গেছে।
টানা কয়েক দিন সাগরে ভেসে থাকার পর নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। পরে মিশরীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় এবং তাদের মরদেহের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে জীবিত উদ্ধার হওয়া সবাই বাংলাদেশি কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার এই বিপজ্জনক রুটে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। দালালচক্রের প্রলোভনে অনিরাপদ নৌযানে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার-পানি সংকট, ইঞ্জিন বিকল, ঝড় ও নৌকাডুবির মতো ঘটনায় প্রায়ই প্রাণহানি ঘটে।
সর্বশেষ এই ঘটনাও অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার ভয়াবহ ঝুঁকির বিষয়টি আবার সামনে এনেছে। স্বজনদের কাছে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করা ১১ বাংলাদেশি আর দেশে ফিরতে পারবেন না; আর বেঁচে যাওয়া ১৮ জন এখন মিশরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।



