দাবানলে পুড়ছে বেলজিয়াম, ছড়াচ্ছে জার্মানি সীমান্তের দিকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:BNBD 365 NEWS
পুড়ছে বেলজিয়াম, ছড়াচ্ছে জার্মানি সীমান্তের দিকে
বেলজিয়ামের দাবানল:ছবি সংগৃহীত
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে বেলজিয়াম। দেশটির পূর্বাঞ্চলের হাই ফেনস (High Fens) প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়া আগুন ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এটি বেলজিয়ামের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে বড় দাবানল।
গত শুক্রবার আগুনের সূত্রপাতের পর দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। শুষ্ক মাটি, শুকিয়ে যাওয়া উদ্ভিদ এবং কঠিন ভূপ্রকৃতির কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের। আগুনের একটি বড় অংশ এখন জার্মানি সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে বেলজিয়ামের বিভিন্ন এলাকার দমকলকর্মীদের পাশাপাশি জার্মানি ও লুক্সেমবার্গের উদ্ধারকর্মীরাও কাজ করছেন। সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় কৃষকরাও আগুন মোকাবিলায় সহায়তা করছেন। আকাশপথে আগুন নেভাতে নেদারল্যান্ডসের হেলিকপ্টারও কাজে যুক্ত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আরও হেলিকপ্টার ও পানি ছোড়ার বিমান পাঠানো হয়েছে।
দাবানলের বিস্তার ঠেকাতে আশপাশের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা ও পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৬০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। আগুনের গতিপথের কাছাকাছি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের আপাতত নিজ নিজ এলাকায় ফিরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জার্মান সীমান্তবর্তী মন্সশাউ (Monschau) এলাকায়। আগুন সরাসরি জার্মান ভূখণ্ডে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তাৎক্ষণিকভাবে কম থাকলেও ধোঁয়ার কারণে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মন্সশাউয়ের একটি অংশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
রেকর্ড ভাঙা এই দাবানলের ভয়াবহতা বোঝা যায় আগের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করলে। ২০১১ সালে বেলজিয়ামে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকা পুড়েছিল। এবারের আগুন ইতোমধ্যে তার দ্বিগুণেরও বেশি এলাকা গ্রাস করেছে।
দাবানলের পেছনে দীর্ঘদিনের তাপ ও খরার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা দাবানলকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে সহায়তা করছে।
বেলজিয়ামের এই পরিস্থিতি ইউরোপের বৃহত্তর দাবানল সংকটের অংশ। একই সময়ে গ্রিস, স্পেন, পর্তুগাল, ক্রোয়েশিয়া ও ইউরোপের আরও কয়েকটি অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে। ফলে চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপে তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের ঝুঁকি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য হলো আগুনের সম্মুখভাগকে জার্মান সীমান্তের দিকে আরও এগিয়ে যাওয়া থেকে ঠেকানো এবং আগুনের চারপাশে তৈরি প্রতিরোধক রেখা ধরে রাখা। তবে বাতাসের দিক পরিবর্তন ও শুষ্ক পরিবেশের কারণে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যাচ্ছে না।



