স্পেন-মরক্কো সীমান্তে অভিবাসন ট্র্যাজেডি: প্রাণহানি বেড়ে ৫৭, জরুরি পদক্ষেপে ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:BNBD NEWS
১ আগস্ট ২০২৬
মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টাকালে ট্র্যাজেডি আরও গভীর হয়েছে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর এই অভূতপূর্ব অনুপ্রবেশ চেষ্টা ইউরোপে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এরই মধ্যে ইতালি ও ফ্রান্স সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
গত কয়েকদিনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথে সেউতার সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন। অনেকেই সাঁতরে বা ফেলা বেড়া টপকে ঢোকার চেষ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এত বিশাল সংখ্যক মানুষের চাপ সামলাতে সীমান্তরক্ষীরা প্রায় অসহায় হয়ে পড়েছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত শুক্রবার তাৎক্ষণিকভাবে সেউতায় যান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি এই ঘটনাকে ‘স্পেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরে সেদিন সন্ধ্যার মধ্যে অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়।
এই সংকটে ইউরোপের অন্যান্য দেশও সতর্ক হয়ে উঠেছে। ইতালি স্পেন থেকে আগত যাত্রীদের ওপর সাময়িক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। ফ্রান্সও তাদের স্পেন সীমান্তে বাড়তি তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে স্পেনের সর্বোচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক এক রায়। আদালত জানিয়েছে, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। এই রায়ের ফলে কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় দ্বিধায় পড়েছে।
যারা সেউতায় প্রবেশ করতে পেরেছেন, তাদের অনেকেই জানিয়েছেন সেখানে খাবার বা আশ্রয়ের কোনো ব্যবস্থা পাননি। অভাব ও অনিশ্চয়তার কারণে শুক্রবার অনেকে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে শুরু করেন। তারা সীমান্তের ফাঁকা জায়গা দিয়ে মরক্কোতে ফিরে গেছেন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ও অনুপ্রবেশকারীর পরিমাণ নিয়ে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও, এটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বৃহৎ অভিবাসন সংকট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



