হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৯০ ডলার ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে আবারও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেলের দামে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল পরিবহন কবে শুরু হবে, তা নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।
গত এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। মঙ্গলবারও দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুড একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ ?
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি তেলের দামেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পের উৎপাদন খরচ এবং শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বাড়ছে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা
তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় বিভিন্ন দেশে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে ভোক্তা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণেই বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির দিকেও গভীর নজর রাখছেন।
সমঝোতার দিকে তাকিয়ে তেলের বাজার
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য এলেও পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়। হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য রয়ে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে তেলের দাম আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। বিপরীতে হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে এলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমবে এবং তেলের দামে কিছুটা চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
অর্থাৎ, আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ক এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিই বিশ্ববাজারে তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে



