তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তাদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে রেড নোটিশ জারি করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দুজনকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলার তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থান জানা নেই এবং তারা পলাতক রয়েছেন।
তদন্ত অনুযায়ী, তনু হত্যার সময় জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট এবং শাহীন আলম সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, এর আগে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন। হাফিজুর রহমান ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন এবং তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
যেভাবে ঘটে তনু হত্যাকাণ্ড
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছের একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে দুই দফা ময়নাতদন্ত হলেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।
রেড নোটিশে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
পলাতক দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত, তাদের অবস্থান নিশ্চিত এবং প্রয়োজনে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পিবিআইয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি-ঢাকা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেয়।
প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের পর ইন্টারপোল তাদের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।
এর ফলে ইন্টারপোলের সদস্য দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো অভিযুক্ত দুজনের অবস্থান শনাক্ত করতে আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতা দিতে পারবে। কোনো দেশে তাদের অবস্থান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কাঠামো অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।



