বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ, সর্বনিম্ন ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা

বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আবারও গতি এসেছে। নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সুপারিশ পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তের জন্য সরকার সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করবে এই কমিটি। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। প্রয়োজনে কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে অথবা চলতি আগস্ট মাসের শেষ দিকে বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদন হলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে নতুন পে-স্কেল ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আর্থিক চাপ বড় চ্যালেঞ্জ
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়। সরকারি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে-স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে পুরোপুরি পিছিয়ে না দিয়ে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে সরকার। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে
১০ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষা
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক দশক ধরে নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। যদিও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রতিবছর নির্ধারিত হারে বাড়ানো হয়েছে, এর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এ অবস্থায় নবম জাতীয় পে-স্কেলের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে-কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।
পরবর্তীতে গত ২১ এপ্রিল পে-স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
বাড়বে সরকারের ব্যয়
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়তে পারে। অতিরিক্ত এই ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এদিকে নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশাও বাড়ছে। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উঠবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর হবে—এখন মূলত সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
সারসংক্ষেপ: প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের পরই বাস্তবায়নের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।



