রুপির বিপরীতে শক্তিশালী হলো টাকা, ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য স্বস্তি

ভারতীয় রুপির বিপরীতে দুই বছরে প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা
ব্রেকিং নিউজ বিডি : অর্থনীতি
ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। সাম্প্রতিক বিনিময় হার অনুযায়ী, দুই বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু গত এক বছরেই বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় ০ দশমিক ৭৮ ভারতীয় রুপি। ২০২৫ সালের একই দিনে এক টাকায় পাওয়া যেত প্রায় ০ দশমিক ৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকার বিপরীতে পাওয়া যেত প্রায় ০ দশমিক ৭০ রুপি।
অন্যদিকে, এক ভারতীয় রুপির বিপরীতে বর্তমানে দিতে হচ্ছে প্রায় ১ টাকা ২৮ পয়সা। এক বছর আগে একই পরিমাণ রুপি কিনতে প্রয়োজন হতো প্রায় ১ টাকা ৩৮ পয়সা। অর্থাৎ, এক ভারতীয় রুপি কিনতে এক বছর আগের তুলনায় এখন প্রায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা কম টাকা লাগছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেও টাকার শক্তিশালী অবস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে। ২১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৭৮৯ থেকে ১ দশমিক ২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক টাকার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭৮১ থেকে ০ দশমিক ৭৮২ ভারতীয় রুপি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য বাণিজ্যিক খরচ অপরিবর্তিত থাকলে শক্তিশালী টাকা দিয়ে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে তুলনামূলক কম অর্থ প্রয়োজন হবে। এর ফলে ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পের উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা সুবিধা পেতে পারেন।
শুধু আমদানিকারকরাই নন, ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও বিনিময় হারের এই পরিবর্তন থেকে সুবিধা পেতে পারেন। রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী থাকায় ভারতে থাকা, খাবার, যাতায়াতসহ স্থানীয় খরচ বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে তুলনামূলক কম হতে পারে।
তবে বিনিময় হার কমার প্রভাব সরাসরি বাজারদরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয়, শুল্ক-কর এবং ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের ওপর।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।
ব্রেকিং নিউজ বিডি ৩৬৫
সব খবর সবার আগে



