শরীয়তপুরে শিশুকে বালাৎকারের অভিযোগ, সালিশে এক লাখ টাকায় আপসের চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিনিধি:BNBD NEWS 365
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইলিয়াস খান (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার নামে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং এক লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা না করার শর্তে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, গত ৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জয়নগর আয়তুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিশুটিকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিম এবং মান্নান শিকদারসহ কয়েকজন স্থানীয় মাতব্বর বিষয়টি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন। তবে শুরুতে ভুক্তভোগীর বাবা আর্থিক সমঝোতায় রাজি না হয়ে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এ কারণে প্রথম দিকের কয়েকটি উদ্যোগে সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে।
পরে গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় জয়নগর মোসলেম উদ্দিন খান ডিগ্রি কলেজ মাঠে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মাতব্বরদের উপস্থিতিতে এক লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা না করার শর্তে ভুক্তভোগীর বাবার কাছ থেকে লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, তিনি শুরু থেকেই কোনো আর্থিক সমঝোতায় যেতে চাননি; বরং ঘটনার সঠিক বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় মাতব্বর ও আত্মীয়দের চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে মীমাংসার উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং অভিযোগ সত্য হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিম বলেন, তিনি একা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেননি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ইলিয়াস খান এলাকায় একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
সালিশের আরেক আয়োজক হিসেবে উল্লেখ করা মান্নান শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ জানান, থানায় এখনো এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই স্থানীয় সালিশ বা আর্থিক সমঝোতার পরিবর্তে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


