যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় নতুন অগ্নিগর্ভ ক্ষেত্র ইয়েমেন

ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ৩০ জন ইয়েমেনি সেনা নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:BNBD365 NEWS
পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হলো ইয়েমেনে। গত সপ্তাহে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে এই হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। রয়টার্সের খবরে জানা গেছে, আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক সেনা। মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশের সামরিক ক্যাম্পগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
হুথিদের দাবি ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
হামলার দায় স্বীকার করে হুথি বিদ্রোহীরা জানায়, তারা সৌদি-সমর্থিত সামরিক অবস্থানগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আঘাত হানে। তাদের দাবি, আল-রুয়াইক, আল-আবর ও আল-থানিয়াহ এলাকায় হামলায় শতাধিক যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী উত্তরাঞ্চলের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সংঘর্ষ শুরুর পর হুথি ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।
আন্তর্জাতিক জোট ও নতুন অস্ত্র
ইয়েমেনের এই সংঘাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলছে। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনাদের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) চলতি বছরের শুরু থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন দক্ষিণ ইয়েমেনে সক্রিয় সুন্নি গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ (এসটিসি)-কে সমর্থন দিলেও গত বছর শেষে সৌদির হুমকির কারণে তা বন্ধ করে দেয়।
হুথি বাহিনী তাদের সামরিক সক্ষমতাও বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তারা ইসরায়েলে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্যালেস্টাইন-২’ দিয়ে হামলা চালায়। ইয়েমেনে ইরানের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, হুথিরা ইরানের কাছ থেকে উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। হিজবুল্লাহর মতোই হুথি বাহিনী ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সমঝোতার পথে হাঁটবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে।



