ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে ঘিরে নতুন আলোচনা, কেন এত আলোচনায় তিনি?

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে ঘিরে নতুন আলোচনা, কেন এত আলোচনায় তিনি?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক;BNBD NEWS 365
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী জন অসফের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ও হার্পের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব জল্পনার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি।
৩৫ বছর বয়সী নাটালি হার্প ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। ২০১২ সালে তিনি সান দিয়েগোর পয়েন্ট লোমা নাজারিন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক এবং ২০১৫ সালে ভার্জিনিয়ার লিবার্টি ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতার শুরু কয়েক বছর আগে। ২০১৯ সালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্যানসার চিকিৎসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ট্রাম্পের ‘Right to Try’ আইনের প্রশংসা করেন। তার দাবি, ওই আইনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি এবং সেই চিকিৎসা সফল হয়।
এরপর তার বক্তব্য মার্কিন রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের নজরে আসে। তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রশংসা করেন।
২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে বক্তৃতা দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান হার্প। সে সময় তিনি ট্রাম্পের নীতির প্রশংসা করেন এবং নিজের চিকিৎসাজীবনে ট্রাম্পের ‘Right to Try’ আইনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
এরপর ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আরও বাড়তে থাকে।
২০২০ সালে তিনি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম One America News Network-এ যোগ দেন। সেখানে তিনি উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন এবং ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন অভিযোগ ও বক্তব্য প্রচার করেন।
২০২২ সালে ওই প্রতিষ্ঠান ছাড়ার পর তিনি সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।
‘হিউম্যান প্রিন্টার’ হিসেবে পরিচিতি
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় হার্পকে ট্রাম্পের পাশে প্রায়ই দেখা যেত। সে সময় তার কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদ ছিল না। তবে ট্রাম্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য ও সংবাদ প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে প্রচারশিবিরে তাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বলা হতো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার ও ব্যাটারি সঙ্গে রাখতেন। ট্রাম্পের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য ও সংবাদ দ্রুত কাগজে প্রিন্ট করে তার হাতে তুলে দিতেন।
ট্রাম্প আবার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর হার্প আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে আসেন। বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী ও নির্বাহী সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে তার বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের পাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
হার্পের দায়িত্ব শুধু তথ্য সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট তৈরির প্রক্রিয়াতেও তিনি ভূমিকা রাখেন বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের জন্য প্রস্তুত করা Truth Social-এর বিভিন্ন পোস্ট তিনি দেখতেন এবং প্রয়োজনে সেগুলো প্রকাশের ব্যবস্থাও করতেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের লেখা একটি বইয়েও ট্রাম্পের প্রতি হার্পের গভীর আনুগত্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তার লেখা কিছু ব্যক্তিগত চিঠির বিষয়ও উঠে এসেছে।
কেন নতুন করে আলোচনায়?
সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ একটি নির্বাচনী বক্তৃতায় ট্রাম্পকে আক্রমণ করতে গিয়ে তার সঙ্গে নাটালি হার্পের ভ্রমণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। এরপরই ট্রাম্প ও হার্পের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
একপর্যায়ে CNN-এর সাংবাদিক ক্রিস্টেন হোমস ট্রাম্পকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন। এতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। একই সময়ে হোয়াইট হাউসের একটি র্যাপিড-রেসপন্স টিমও সাংবাদিকটির সমালোচনা করে।
হোয়াইট হাউসের এই তীব্র প্রতিক্রিয়া বিষয়টি আরও আলোচনায় নিয়ে আসে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে এত জোরালো প্রতিক্রিয়া না দেখালে হয়তো জল্পনাও এতটা ছড়াত না।
তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প ও নাটালি হার্পের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তার পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
ট্রাম্পের আস্থাভাজন সহযোগী
সব বিতর্কের বাইরে একটি বিষয় স্পষ্ট—নাটালি হার্প বর্তমানে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন। নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে হোয়াইট হাউসের কর্মকাণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে সফরের সময়ও তাকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে পাশে থাকতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
নাটালি হার্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে তার প্রকৃত প্রভাব কতটা এবং প্রেসিডেন্টের এত কাছাকাছি থাকার পেছনে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।



