র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব: পুরনো চেহারায় নতুন নাম

নিজস্ব প্রতিনিধি:BNBD NEWS 365
বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠনের প্রস্তাবিত আইনের খসড়া প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন এই ইউনিটের ক্ষমতা ও দায়িত্বে কী পরিবর্তন আনা হচ্ছে—তা নিয়েই মূলত কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
খসড়া আইনে যা বলা হচ্ছে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও নির্ধারিত শর্তে এই ইউনিটে যোগ দিতে পারবেন।
এসআরবির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে:
· অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা
· গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ
· বেআইনি অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
· সাইবার অপরাধ, মানবপাচার ও সন্ত্রাস দমন
· নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও অপহরণ রোধ
· গুম-খুন ও ভূমি দস্যুতা প্রতিরোধ
নতুন ইউনিটকে তদন্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতার বা জব্দকৃত আলামত অবিলম্বে নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে। এছাড়া নাগরিক অভিযোগ মোকাবিলায় ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যার প্রধান হবেন ইউনিটের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক
নতুন কী আছে (এসআরবি ) ইউনিটে
অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ওমর ফারুকের মতে, র্যাব শুধু গ্রেফতার করলেও এসআরবিকে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে—এটি একটি পরিবর্তন। এছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা আগে ছিল না।
তবে মানবাধিকার সংগঠক নূর খান লিটন মনে করছেন, “মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। নতুন মোড়কে পুরনো জিনিসই দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর মতে, র্যাবের মতো প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকেও সদস্য আনার সুযোগ রাখা হয়েছে, অথচ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কাজের ধরন আলাদা।
সমালোচনা ও উদ্বেগ
নূর খান লিটন আরও বলেন, নতুন আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ রাখা হয়নি। অভিযোগ প্রতিকার কমিটিতে বাহিনীর বাইরের কাউকে সংযুক্ত করার সুযোগ থাকলেও কর্তৃপক্ষই তা করবেন—সেখানে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, র্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, অন্তর্ধান ও নির্যাতনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কক্সবাজারের একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের পর এই বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিটিও র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানায়।
আইনের খসড়া নিয়ে মতামত চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে আইনটি আরও পরিমার্জিত করা হবে। এরপর তা সংসদে পাশ হলে র্যাব বিলুপ্ত হয়ে এসআরবি গঠিত হবে।



