ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার যানজট: সংস্কার কাজের জেরে চরম দুর্ভোগ যাত্রীদের

আষাড়িয়ারচর ব্রিজের ঢাকামুখী লেন বন্ধ থাকায় কুমিল্লার চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত লম্বা যানজট; ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে শিশু-বৃদ্ধ-নারীদের অসুস্থ হওয়ার খবর; ফ্লাইট মিস, বাস ছেড়ে ভ্যানে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে আজ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা, মাধাইয়া, দাউদকান্দি থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়েছে। আষাড়িয়ারচর ব্রিজের ঢাকামুখী লেনে বড় গর্তের সংস্কার কাজ শুরু করায় গত শুক্রবার সকাল থেকে এই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের ভেতর আটকে থেকে শিশু, নারী ও বৃদ্ধ যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেক যাত্রী জরুরি প্রয়োজনে বা বিমানবন্দরে ফ্লাইট ধরতে গিয়েও পথেই আটকা পড়েছেন। নিরুপায় হয়ে কেউ কেউ বাস থেকে নেমে অটোরিকশা বা ভ্যানে করে ভেঙে ভেঙে ঢাকার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার অনেক ঢাকাগামী যাত্রীকে কুমিল্লা অভিমুখে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, সংস্কার কাজ চলাকালীন দুই লেনের মধ্যে ঢাকামুখী একটি লেন বন্ধ রেখে অন্য লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করানো হয়। শুক্রবার বিকেল থেকে ধীরগতি শুরু হয় এবং রাতে দূরপাল্লার নৈশকোচ ও পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ যুক্ত হলে তা বিশাল যানজটে রূপ নেয়। শনিবার ভোর থেকে চান্দিনার মাধাইয়া ও কুটুম্বপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
চালকরা জানান, সাধারণত কুমিল্লা থেকে ঢাকা পৌঁছাতে ২ ঘণ্টা সময় লাগলেও এখন ১০-১২ ঘণ্টাতেও মেঘনা ব্রিজ পার হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় অনেক যাত্রীর খাবার-পানির সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পানীয় জল ও শুকনো খাবার বিক্রি করছেন, তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম অবিরাম কাজ করছে। তিনি জানান, সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে এবং আজ বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এদিকে, যানজটের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ লাইন পড়েছে। উল্টোপথে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় জরুরি যানবাহনগুলোও আটকা পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।
তারিখ: ২৯ আগস্ট ২০২৬
স্থান: কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ


