আসিয়ান কাপ সামনে রেখে জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প শুরু

ফিফা আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় দলের ২৮ সদস্যের স্কোয়াডের মধ্যে ২৭ জন টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে রিপোর্ট করেছেন। পারিবারিক সমস্যার কারণে গোলরক্ষক মিতুল মারমা কয়েক দিন পর দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
শুক্রবার থেকে কিংস অ্যারেনায় শুরু হবে দলের মাঠের অনুশীলন। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
ভারত টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করার পর বাংলাদেশ আসিয়ান কাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। শুরুতে অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছে জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।
জাতীয় দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি প্রায় এক মাস আগে থেকেই এই প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শুরু করেছেন। মে মাসে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তার অধীনে বড় সাফল্য পায় বাংলাদেশ। গত ৫ জুন ইউরোপের মাটিতে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের দল।
তবে ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম এখনো শুরু না হওয়ায় খেলোয়াড়দের নিয়মিত ম্যাচে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাননি কোচ ডুলি। বাংলাদেশ ফুটবল লিগের সূচি পিছিয়ে যাওয়ায় জাতীয় দলের ক্যাম্পও নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু করা হয়েছে।
টিম ম্যানেজার আমের খান জানিয়েছেন, ঘরোয়া লিগ ও দলবদল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় ক্লাবগুলো এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করতে পারেনি। এ কারণে কোচের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় দলের ক্যাম্প আগেভাগে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ক্যাম্পে মূলত দেশের ঘরোয়া ফুটবলে খেলা খেলোয়াড়দের রাখা হয়েছে। প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও শমিত শোম এই প্রাথমিক স্কোয়াডে নেই। তবে বড় এই প্রতিযোগিতার জন্য কোচের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বাফুফে।
দীর্ঘ বিরতির পর আবার মাঠে ফেরায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য ক্যাম্পের প্রথম সপ্তাহ কিছুটা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন। তার মতে, নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ও শারীরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর জন্য সামনে পাওয়া চার-পাঁচ সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আসিয়ান কাপের পর নভেম্বর মাসে দেশের মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবে বাংলাদেশ। তাই আসিয়ান কাপকে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, সাফের প্রস্তুতিরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা।



