কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। নিহতদের মধ্যে নারী ও চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতের দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে পাঁচতলা একটি ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভবনটিতে একাধিক আবাসিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল। স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী।
আগুন দ্রুত ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ঘন ধোঁয়ায় পুরো ভবন আচ্ছন্ন হয়ে যায়। উদ্ধারকারী দল ওপরের তলাগুলোতে পৌঁছাতে গিয়ে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়ে। দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মীরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।
নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুইজন নারী ও চার বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন নিহতরা
স্থানীয় ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত বাংলাদেশিদের অনেকেই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় গিয়েছিলেন। তারা মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলটিতে অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর বিষয়টি কলকাতা পুলিশও জানিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভবনটির সরু সিঁড়ি, সীমিত বের হওয়ার পথ এবং অপর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা উঠে এসেছে। এসব কারণে আগুনের সময় দ্রুত বের হতে না পারায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশ, দমকল ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলো তদন্ত করছে।
ঘটনাস্থলটি কলকাতা নিউমার্কেটের কাছাকাছি এবং কলকাতা দমকল বাহিনীর সদর দপ্তরেরও নিকটে। এরপরও একটি ঘনবসতিপূর্ণ ভবনে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং প্রাণহানির ঘটনায় শহরের হোটেল ও আবাসিক ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় ও মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিতভাবে জানা যাবে। একই সঙ্গে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।


