জিম্বাবুয়েতে নৌকাডুবিতে নিহত বেড়ে ৬৮, চলছে উদ্ধার অভিযান

জিম্বাবুয়েতে নৌকাডুবিতে নিহত বেড়ে ৬৮, চলছে উদ্ধার অভিযান
আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কারিবা হ্রদে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শনিবার নতুন করে ২২টি মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের সংখ্যা এতটা বেড়েছে বলে জানিয়েছে জিম্বাবুয়ে পুলিশ।
গত ১১ আগস্ট প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে কারিবা হ্রদে ফেরিটি উল্টে যায়। নৌযানটি কারিবা শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামীণ ও মাছ ধরার এলাকাগুলোর দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় ফেরিটিতে অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি যাত্রী ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। এর বাইরে কতজন শিশু ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অন্য একটি সরকারি হিসাবে নৌযানটিতে মোট যাত্রী ও ক্রুসহ প্রায় ১৫৩ জন থাকার কথা বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হ্রদের পানিতে নিখোঁজদের সন্ধানে ডুবুরি, নৌযান ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তারা জানান, ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে পানির নিচে থাকা মরদেহগুলো ভেসে উঠতে সময় লাগছে। ফলে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ ঘটনাকে জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর কারিবা শহরের হাসপাতালে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্ত করার জন্য অপেক্ষা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কারিবা হ্রদের এই ফেরি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে শহরের যোগাযোগে নৌযানটির ওপর অনেক মানুষ নির্ভরশীল। দুর্ঘটনার পর নৌযানের নিরাপত্তা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ফেরি চলাচল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
জিম্বাবুয়ে কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালাচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, এপি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম


