বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত 5 জন।

Bnbd365 News Desk:রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল ও লাঠিসোঁটার হামলায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। জানা যায়, দিনভর ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী চলছিল। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার বলে দাবি করা কয়েকজন নেতার ছবি তুলে ধরা হয়।
এতে কয়েকটি ছবি নিয়ে আপত্তি জানায় ছাত্রদল। তাদের অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে, যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তারা অবিলম্বে সেগুলো সরানোর দাবি জানায়। ছাত্রশিবির অবশ্য সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে তা সহিংস রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা নামতেই উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন। হঠাৎ করেই এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ধাওয়া দেয়। শুরু হয় রীতিমতো ইট-পাটকেল ও চেয়ার নিক্ষেপ। লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তারা। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে উভয় সংগঠনের নেতাকর্মী রয়েছেন, তবে রাত পর্যন্ত তাদের পরিচয় জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সংঘর্ষের খবর ছড়াতেই ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত হল কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্পাসে মোতায়েন হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, “একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এখন ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ঘাটত্মকদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তদন্ত শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহিংসতাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্যাম্পাসে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক অবস্থা বজায় থাকবে।




