BnBd News:নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক মাদরাসাশিক্ষক ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর লজ্জা ও মানসিক আঘাতে ওই কিশোরী আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ওমায়ের আহমেদ (২০)। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের মিজমিজি পাগলাবাড়ি এলাকার হেদায়েত উল্লাহর ছেলে এবং স্থানীয় আন-নাবিল ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার নাজেরা শাখার শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীর ছোট ভাই ওই মাদরাসারই শিক্ষার্থী। তিনি নিয়মিত ভাইকে মাদরাসায় নিয়ে যাতায়াত করতেন। সে সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক ওমায়ের আহমেদ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে থাকেন। কিন্তু তরুণী প্রত্যাখ্যান করায় তিনি ক্ষুব্ধ হন।
গত ১২ জুলাই বিকালে তরুণী তার ভাইকে মাদরাসায় খাবার দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযুক্ত তাকে পেছন পেছন অনুসরণ করে। তিনি বাড়িতে প্রবেশ করামাত্রই শিক্ষক জোর করে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের পর আত্মগোপনে চলে গেলে তরুণী ঘুমের ওষুধ ও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর নানা জানান, মেয়েটির বাবা দিনমজুর। ঘটনার সময় তার মা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বাইরে ছিলেন। বাড়ি ফাঁকা পেয়ে ওই শিক্ষক এ কাণ্ড ঘটান। পরবর্তীতে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে মীমাংসার চেষ্টা করেন এবং ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর ভাইদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
এদিকে, অভিযুক্তের বড় ভাই ও ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক জুবায়ের ফোনে সাংবাদিকদের জানান, থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদের ডেকেছেন। তারা ওসির উপস্থিতিতে থানায় বসতে প্রস্তুত।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি শুনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ধর্ষণের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
যখন আপডেট করা হয়েছে 07 আগস্ট, 2026



