দিল্লিতে ছাত্র-মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্না, আটক রাহুল-প্রিয়ঙ্কা-অখিলেস
নয়াদিল্লি: দিল্লিতে শিক্ষার্থী ও যুবদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থানে বসেছিলেন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেই ধর্নাস্থল থেকেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং সমাজবাদী পার্টি (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবসহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত মেডিক্যাল প্রবেশিকা (নিট) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এর প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সংসদ ভবন অভিযান ঘিরে সোমবার চরম উত্তেজনা ছড়ায় দিল্লিতে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশি অ্যাকশনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাসভবনের (৭, লোককল্যাণ মার্গ) সামনে রাতভর ধর্না-বিক্ষোভের ডাক দেন রাহুল গান্ধী। ধর্নায় বিরোধী সাংসদদের পাশাপাশি কংগ্রেস শাসিত দুই রাজ্য হিমাচল ও কর্ণাটকের নেতা- প্রতিনিধি এবং কেরলের বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন ও কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার যোগ দেন।
বিক্ষোভ শুরুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় রাহুল গান্ধী লেখেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে দেশের প্রতিটি পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী না জবাব দিয়ে পার পাবেন না। দেশের স্বার্থে এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবিতে সবাইকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা থেকে ধর্না তুলে নিতে আবেদন জানান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আবারও কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকেন।
বিরোধী জোটে চার দফায় মূল দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ।
২. পুলিশি বার্বতার জন্য মোদী সরকারের প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা।
৩. সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি।
৪. চলতি বাদল অধিবেশনে জাতীয় শিক্ষানীতি ও প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
সরকার পক্ষ থেকে আলোচনা ও তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন। ফলে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় সন্ধ্যার দিকে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে রাহুল, প্রিয়ঙ্কা, অখিলেশসহ শীর্ষ নেতাদের আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায়। অধিবেশনের শুরুতেই এই আটকের ঘটনায় জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

