কলারোয়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণী, ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ, গর্ভবতী হওয়ার পর গর্ভপাত করানো এবং পরে বিদেশ চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর বিয়ে ও পারিবারিক স্বীকৃতির দাবিতে অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন ওই তরুণী।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার কেঁড়াগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগকারী তরুণী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি (২০)। তিনি কলারোয়া উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম কেঁড়াগাছি গ্রামের বাসিন্দা।
স্মৃতির দাবি, প্রায় দুই বছর আগে মনিরুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। স্মৃতির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর পর তার গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত করানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্মৃতির আরও অভিযোগ, পরে মনিরুল বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও তাদের সম্পর্ক অস্বীকার করে বিদেশ চলে যান। এরপর বিষয়টির সমাধানের জন্য বিভিন্নজনের সহযোগিতা চেয়েও কোনো ফল না পাওয়ায় শুক্রবার তিনি মনিরুলের কেঁড়াগাছির বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে মনিরুল দেশে ফিরলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দেওয়া হলে তিনি ওই বাড়ি থেকে চলে যান।
স্মৃতি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিয়ে ও সামাজিক স্বীকৃতির দাবিও জানিয়েছেন।
তবে তার করা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আইনগত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।


