ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা আল আমিন সৈকতকে কুপিয়ে হত্যা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় মো. আল আমিন সৈকত (৪০) নামে এক সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নিহত হয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভৈরব শহরের টিনপট্টি এলাকার গোপাল জিউর মন্দিরের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অতর্কিত হামলা
নিহতের শ্যালক বাকী বিল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে আল আমিন সৈকত টিনপট্টি এলাকার গোপাল জিউর মন্দিরের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঢাকায় নেওয়ার পর মৃত্যু
স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈকতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।
নিহতের পরিচয়
মো. আল আমিন সৈকত ভৈরব পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি ভৈরব পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গেও যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়
কেন বা কী কারণে আল আমিন সৈকতের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব রহমান জানিয়েছেন, হামলায় গুরুতর আহত সৈকতকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
হত্যাকাণ্ডের পর ভৈরব শহরের টিনপট্টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে। তবে হামলার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা কারা জড়িত—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।


