কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ২৩০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:BNBD 365 NEWS
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ২৩০০
আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলমান প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৩২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৯৪৫ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০১ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
চলমান এই পরিস্থিতি ইতোমধ্যে কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশটিতে যে বড় ধরনের ইবোলা সংক্রমণ হয়েছিল, তখন ২ হাজার ২৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের বিস্তারও উদ্বেগজনক। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। তুলনায় পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪-২০১৬ সালের ভয়াবহ ইবোলা মহামারিতে এক হাজার মানুষের মৃত্যু হতে প্রায় পাঁচ মাস সময় লেগেছিল।
ওই পশ্চিম আফ্রিকার মহামারিতে গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে মোট ২৮ হাজার ৬১৬ জন আক্রান্ত হন এবং ১১ হাজার ৩১০ জনের মৃত্যু হয়।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের পেছনে ইবোলার বান্দিবুগিও প্রজাতিকে দায়ী করা হচ্ছে। এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল স্বাস্থ্য অবকাঠামো, স্থানীয় পর্যায়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নানা বাধা এবং দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা ও চিকিৎসার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণত কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্ত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর হওয়ার কথা। এতে রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় এবং মৃত্যুহার কমে আসার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কঙ্গোতে অনেক রোগী এখনো দেরিতে শনাক্ত হচ্ছেন। ফলে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা শুরু হওয়ায় তাদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু পরীক্ষামূলক টিকা ও চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে দেখছে, বর্তমানে ইবোলার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত কিছু চিকিৎসা বান্দিবুগিও প্রজাতির ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে কি না। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত মানবদেহভিত্তিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি; বিদ্যমান তথ্যের বড় অংশই প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।
কঙ্গোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের আলাদা রাখা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এখন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


