নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঘোষণা আসতে পারে যেকোনো সময়

নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঘোষণা আসতে পারে যেকোনো সময়
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এরই মধ্যে নতুন পে-স্কেলের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি।
মন্ত্রিসভার অনুমোদন এখন গুরুত্বপূর্ণ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পে-স্কেলের প্রস্তাব চূড়ান্ত করার পর এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন এবং অনুমোদনের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে চলতি সপ্তাহেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে বলে এর আগে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছিল।
অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পে-স্কেলের মূল কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ হলেও মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন ও পরবর্তী প্রজ্ঞাপন জারির আগে এটিকে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়েছে বলা যাবে না।
সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব
প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে সব গ্রেডে একই হারে বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আনুপাতিকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে কোন গ্রেডে চূড়ান্তভাবে কত টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে, সেটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নিশ্চিত হবে।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত হতে পারে?
নবম জাতীয় পে কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে এগুলো কমিশনের সুপারিশ; সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এতে পরিবর্তন আনতে পারে।
দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো এবং দ্বিতীয় ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে আংশিক বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে এবং ধাপে ধাপে পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে পে-স্কেল কত ধাপে এবং কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভাই নেবে।
১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর অপেক্ষা
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর নতুন পে-স্কেল না হওয়ায় প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছেন। জনগণের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন কিছুটা কষ্টকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে বেতন সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে নতুন পে-স্কেলের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
জুলাই থেকে কার্যকর হলে বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনা
নতুন পে-স্কেল যদি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তাহলে প্রজ্ঞাপন জারির পর জুলাই থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ বকেয়া বা এরিয়ার হিসেবে দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসতে পারে। তবে বকেয়া কীভাবে এবং কোন সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে, তা চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়ন নির্দেশনায় স্পষ্ট হবে।
এখন কী অপেক্ষা?
সব মিলিয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেল এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের একেবারে শেষ ধাপে। সচিব কমিটি প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে, এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট গ্রেডের বেতন, ভাতা বা বাস্তবায়নের তারিখকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন পে-স্কেল কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে—এখন সেটিই সবার নজরে।



