জাপানি প্রতিষ্ঠানের পিপিপি আগ্রহ: ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মাণে ৩.৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব

নিউজ ডেস্ক:BNBD365 NEWS
জাপানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে। দুটি প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা (প্রায় ৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার)।
রাজধানীর এক হোটেলে অনুষ্ঠিত অষ্টম বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্ম সভায় জাপানি এই কোম্পানিটি নির্মাণ আগ্রহের কথা জানায়। সেতু বিভাগ ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
২০৩৩ সালের মধ্যে নির্মাণ লক্ষ্য
সেতু দুটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছে সরকার। ২০৩৩ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পিপিপি নীতিমালা অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ সরকার।
সভায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর ও বরিশাল-ভোলা সেতুকে যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় নতুন প্রকল্প হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও আশিক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিুরুল ইসলাম খান।
জাপানি প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা, রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি ও ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের (এমএলআইটি) সহকারী উপমন্ত্রী ফুজিতা মাসাকুনি।
প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও আলোচনা করেছিল সরকার। মিয়াগাওয়া এককভাবে অথবা অন্যান্য জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনের আগে ট্রানজিশন পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হবে।
এরপর সরকার রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) ইস্যু করবে। আরএফপি জমা ও মূল্যায়ন শেষে জাপানি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হবে। বাংলাদেশে মিয়াগাওয়ার স্থানীয় অংশীদার স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড প্রকল্পের বিনিয়োগ পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তা দিচ্ছে।
ভোলা-বরিশাল সেতু: দেশের দীর্ঘতম সেতু
১০.৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেতু। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। দ্বীপজেলা ভোলা ও মূল ভূখণ্ড বরিশালের মধ্যে স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে এই সেতু।
২০২৪ সালের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সেতুটি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং আগামী ৩০ বছরে জিডিপিতে ০.৮৬ শতাংশ অবদান রাখবে। ভোলা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহও সহজ হবে।
শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু
মেঘনা নদীর ওপর ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলা যুক্ত করবে সেতুটি। খুলনা-চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমবে এবং ঢাকার ওপর দিয়ে যানবাহনের চাপ কমবে।
চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট ও শরীয়তপুরের সখিপুরের মধ্যে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩২ সালের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতুতেও জাপানের আগ্রহ
ওই বৈঠকে ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু প্রকল্পও উপস্থাপন করা হয়। জাপানি প্রতিনিধি দল প্রকল্পটিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মেঘনা নদীর ওপর এই সেতু নির্মিত হলে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১২টি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ৯টিসহ মোট ২১ জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।
অন্যান্য প্রস্তাব ও অগ্রগতি
জাপানি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামে একটি ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্রকল্প এবং পুরোনো রেলসেতুগুলোর আধুনিকায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি কমলাপুর মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল ও আউটার রিং রোড প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও আশিক চৌধুরী জানান, এই প্ল্যাটফর্ম বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মানসম্মত বিনিয়োগ আকর্ষণের বিশ্বস্ত মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এই প্ল্যাটফর্মের প্রতি সরকারের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।


