
নিজর্স প্রতিবেদক:BnBd365 News
সরকারি গাড়িবহরের সামনে পুলিশের চকচকে গাড়ি—যা ছিল মন্ত্রীপদীর প্রতিপত্তির প্রতীক। এবার সেই চিত্র পাল্টাতে চলেছে রাজধানীর সড়কে। শপথগ্রহণের পর থেকে পুলিশি প্রহরায় চলা ১৮ মন্ত্রীকে এসকর্টবিহীন হতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সাধারণ মানুষ, আর বিস্মিত হন রাজনৈতিক মহল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়েই এই সিদ্ধান্ত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ডিএমপি তা বাস্তবায়ন করেছে। তবে ঢাকার বাইরে সফরে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সব মন্ত্রীর জন্য পুলিশি নিরাপত্তা বহাল থাকবে।
এখন শুধু ছয় মন্ত্রী ও একজন মন্ত্রীপদমর্যাদার উপদেষ্টা এই সুবিধা পাবেন। তাঁরা হলেন—স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এসকর্টের প্রতিটি গাড়িতে থাকে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল। আগে ১৮ মন্ত্রীর এসকর্টে মোতায়েন ছিল প্রায় ১২০ পুলিশ সদস্য। এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ জনে—অর্থাৎ প্রায় ৯০ পুলিশ সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যাও কমেছে ২৪টি থেকে ৭টিতে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিজের বহর থেকে পুলিশের দুটি প্রটোকল গাড়ি বাদ দিয়েছেন।
তবে কোন মানদণ্ডে এই সাতজনকে রেখে বাকিদের বাদ দেওয়া হয়েছে—তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘প্রয়োজনের ভিত্তিতেই’ এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। কিন্তু কোন নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত—তা সংশ্লিষ্ট কেউই স্পষ্ট করেননি।
একসময় মন্ত্রীদের চলাচলের সময় সামনে থাকা পুলিশি গাড়িকে ‘এসকর্ট’ বা ‘প্রটেকশন গাড়ি’ বলা হয়। ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর প্রয়োজন ও চলাচলের সূচি অনুযায়ী এই দল নিয়োজিত থাকে। এবারের সিদ্ধান্তে সেই চিরাচরিত রীতি বদলে গেল।
সরকারের এই পদক্ষেপকে কেউ কেউ ব্যয়সংকোচনের অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন—এটি নেতৃত্বের নতুন দৃষ্টান্ত। তবে যাই হোক, পুলিশি বাহুবল নয়, কাজের মাধ্যমেই এখন মন্ত্রীদের পরিচয় দিতে হবে—এটাই যেন নতুন বার্তা।



