
বিক্ষোভের মুখে নরেন্দ্র মোদীর সংসদ ভবন ত্যাগ
আন্দোলনকারী এবং পুলিশের মাঝে দাওয়া পাল্টা দাওয়া পুলিলের কাদনে গ্যাস এবং টিয়ারশ্যাল নিক্ষেপ
অনলাইন ডেস্ক, নয়া দিল্লি:
ভারতের চিকিৎসা সংক্রান্ত জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে এক নজিরবিহীন ছাত্র বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০ জুলাই, ২০২৬ (সোমবার) সংসদের বাদল বা বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রায় অংশ নিলে দিল্লির রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে উঠে আসা তরুণদের জনপ্রিয় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) এবং বেশ কয়েকটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের ডাকে এই বিশাল বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি— প্রশ্ন ফাঁসের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা।
ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা ও পুলিশের লাঠিচার্জ
সোমবার সকালে দিল্লির ঐতিহাসিক ‘যন্তর মন্তর’ প্রাঙ্গণ থেকে ১০ বা ১২ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের অভিমুখে রওনা হন। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই পুরো সংসদীয় এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করে সাধারণ জমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল।
বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে তাদের দফায় দফায় ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাস (কাঁদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লির কিছু অংশের মোবাইল ইন্টারনেট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
উত্তপ্ত সংসদ ও প্রধানমন্ত্রী মোদির অবস্থান
বাইরে যখন রাজপথ উত্তাল, তখন সংসদের ভেতরেও বিরোধী দলগুলো শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের তীব্র নিন্দা জানায়। রাজ্যসভার বিরোধী দলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে সংসদে অভিযোগ করেন যে, সরকার শক্তি প্রয়োগ করে যুবসমাজের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অধিবেশনের শুরুতে দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করে সংসদীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার আহ্বান জানান। দিনভর সাধারণ সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পর এবং নিজের বক্তব্য শেষ করে, বিকেলে সংসদের কাজ সমাপ্ত হলে তিনি তাঁর নির্ধারিত নিরাপত্তা কনভয় নিয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই সংসদ ভবন ত্যাগ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ‘সংসদ ভবন ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার’ যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে নিশ্চিত করেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসমূহ।
আলোচনার টেবিল ও ভবিষ্যৎ আন্দোলন
এদিকে বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ার মুখে কেন্দ্রীয় সরকার কিছুটা নমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করেছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা আলোচনার জন্য ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানান। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা সরকারের সাথে আলোচনায় বসতে রাজি, তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং প্রশ্ন ফাঁসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে তারা অনড়।
উল্লেখ্য, মে মাসে অনুষ্ঠিত ২ মিলিয়নেরও বেশি শিক্ষার্থীর NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর থেকেই ভারতের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই চরম ক্ষোভের জন্ম নেয়, যা বর্তমানে একটি বিশাল গণআন্দোলনের রূপ ধারণ করেছে।

